
নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ষষ্ঠ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য প্রার্থী মো. নাজমুল হোসেন এ অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, নির্বাচনে কান্দা খানেপুর ভোট কেন্দ্রের ৩ নাম্বার (পুরুষ) বুথ, ৪ নাম্বার (পুরুষ) বুথ, ৫ নাম্বার (মহিলা) বুথে ভোট কারচুপি করা হয়। ভোট কারচুপিতে এ্যাড. নান্নু মিয়া ও মো. হিরো নামে দুই ব্যক্তি সরাসরি কাজ করেন বলেও অভিযোগ করেন মেম্বার প্রার্থী নাজমুল।
ভোট কারচুপির ব্যাপারে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নান্নু মিয়া তাদের তালা প্রতীকের পরিবর্তে মোরগ প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করেন। আবার অনেকেই অভিযোগ করছেন আমরা ভোট দিতে না চাওয়ায় নান্নু মিয়া আমাদের জোড় করে আঙ্গুল ধরে মোরগ প্রতিকে ভোট দিয়ে দেয়। এছাড়া নাম প্রকাশ না করা শর্তে আরও অনেক ভোটাররা বলেন, আমাদের ফিঙ্গার হওয়ার সাথে সাথে আমাদেরকে নান্নু মিয়া ভোট হয়ে গিয়েছে বলে বুথ থেকে বের করে দেয়।
অন্যদিকে খানেপুর কান্দি ও চর শৈল্যা (পুরুষ) বুথে থাকা হিরো সরাসরি ভোটারের সাথে বুথে প্রবেশ করে ভোট দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন মেম্বার প্রার্থী নাজমুল। সেই সাথে বুথে প্রবেশ করে ভোট দিচ্ছেন এমন ফুটেজে দেখা যায়, এক ভোটার বুথে প্রবেশ করছেন। সাথে ওই কেন্দ্রে থাকা হিরো নামে এক ব্যক্তি তার সাথে বুথে প্রবেশ করছেন। তার ভোট দেওয়া শেষ হওয়া না পর্যন্ত তিনি বুথ থেকে বের হননি। ভিডিও ফুটেজে আরও দেখা যায়, নান্নু মিয়া কোনো ধরনের পোলিং এজেন্ট না হয়েও বুথে প্রবেশ করে ব্যালট বুথের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে মোরগ প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের বাধ্য করছেন। অন্য এক ভিডিওতে দেখা যায় একটি বেসরকারি অনলাইন পত্রিকা তাদের পেইজে ভোট কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে লাইভ দেখাচ্ছেন। ৫নং বুথে প্রবেশ করলে লাইভে থাকা গণমাধ্যম কর্মীকে নান্নু মিয়া বলেন, আপনি ১০ মিনিট পরে বুথে আসেন।
ভোট কারচুপির ব্যাপারে মেম্বার প্রার্থী মো. নাজমুল হোসেন বলেন, আমি জনগনের সমর্থন নিয়ে মেম্বার নির্বাচন করেছি। আমি আশাবাদি ছিলাম আমার আত্নীয় স্বজনসহ আমার কর্মী ও ভোটারদের সরব উপস্থিতিতে আমি প্রায় ১হাজার ভোট পাবো। কিন্তু ভোট কেন্দ্রের বুথে থাকা নান্নু মিয়া ও হিরো সরাসরি ভোটারদের নাগরিক অধিকার হরণ করে আমার তালা প্রতীকের পরিবর্তে মোরগ প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করে। আমি উপস্থিত প্রশাসন ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে অভিযোগ করেও কোনো ধরণের প্রতিকার পাইনি।
তিনি আরও জানান, আমি এই কেন্দ্রে পুনরায় সাধারণ সদস্য পদে ভোট গ্রহনের দাবিতে নির্বাচন কমিশন কতৃক নির্বাচনি আপিল ট্রাইব্যুনেলে আপিল করবো। ইনশাআল্লাহ আমি আশাবাদি এই কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট হলে আমি অনেক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবো।
দৈনিক জাগরণ/আরকে