
জামাল উদ্দিান বাবলু
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে বেড়ে চলছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে লক্ষ্মীপুর হাসপাতালই ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৫ শতাধিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আর ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৩ শতাধিকের বেশি।
জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চিত্রও একই। তবে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। এদের ডায়রিয়ার সঙ্গে বমিও বেড়েছে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে আতংকিত না হয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়াটা খুবই জরুরী বলছেন চিকিৎসকরা।
সরজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ঠান্ডা গরমের কারণে প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ জন শিশু। এদের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ডায়রিয়া শিশু ওয়ার্ডে একই বেডে দুই জন করে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। এতে করে চরম দূর্ভোগ পোঁহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তির পর হাসপাতাল থেকে তাদের খাবার স্যালাইন ও সামান্য কিছু ঔষধ দেয়া হয়। বাকী ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হয়। এছাড়া তেমন চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন তারা।
প্রতিদিনই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। তবে প্রতিবেডে এক শিশুকে চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও বেড না থাকায় দুই শিশুকে এক বেডে থেকে এবং মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে করে চরম দূর্ভোগ পোঁহাতে হচ্ছে তাদের।
জানা যায়, ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৫ শতাধিক রোগী। এর মধ্যে ৩ শতাধিক শিশু ও বয়স্ক রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। রোগীর অনুপাতে হাসপাতালে বেড না থাকায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতে।
এছাড়া জেলার কমলনগর, রামগতি, রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ভর্তি হচ্ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এসব রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. কিশওয়ারা শারমিন বলেন, অন্যান্য মাসের তুলনায় গত কয়েকদিন যাবত ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। ঠান্ডা গরমের কারনে ডায়রিয়া প্রকোপ বেড়েছে। দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাদের সাধ্যমতে চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। দৈনিক বহিঃ বিভাগে ৭ থেকে ৮শ জন নতুন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জনবল সংকটের কারণে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জাগরণ/আরকে