
লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের এই পদক্ষেপে মঙ্গলবার তাদের বিরোধিতার কথা জানিয়েছে চীন। যদিও বেজিং এর বিরোধিতা উড়িয়ে দিল ভারত। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে জানিয়ে দিল ভারত। চীনা সরকারি কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জানতে চাওয়া হলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার বলেন, “৫ অগস্ট সংসদে জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল পেশ করেছে সরকার, সেই বিলে লাদাখকে একটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার কথা বলা হয়েছে, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়”। তিনি আরও বলেন, “ভারত অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলে না এবং অন্য দেশের থেকেও সেটাই আশা করে”।
পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “এখনও পর্যন্ত ভারত-চীন সীমান্ত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, সীমান্ত নিয়ে, রাজনৈতিক ভিত্তিতে দুই পক্ষ নায্য এবং পারষ্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে রাজি হয়েছে এবং ভারত-চীন সীমান্ত নিয়ে সমাধানে নীতি তৈরি করছে”। তার কথায়, “এমন একটি সমাধান বকেয়া থাকায়, দুই পক্ষই সীমান্তের প্রাসঙ্গিক চুক্তিগুলির বিষয়ে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে”।
ভারত ও পাকিস্তানকে শান্তি বজায় রাখত এবং কাশ্মীর নিয়ে “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করে চীন বলে, দুই দেশের উচিত, বলপ্রয়োগ এড়িয়ে চলা, যা “শুধুমাত্র” সেখানকার পরিস্থিতি বদলে দেয় এবং “উত্তেজনা বৃদ্ধি” করে। লাদাখকে একটি পৃথ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার ভারতের পদক্ষেপেরও সমালোচনা করে চীন।
জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা দিয়ে সেখানে ছিল ৩৭০ ধারা, সোমবার তা প্রত্যাহার করে ভারত। পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, একটি জম্মু ও কাশ্মীর এবং অপরটি লাদাখ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে, চীনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুইং একটি বিবৃতিতে বলেন, “চীন-ভারত সীমান্তে পশ্চিমাংশে তাদের প্রশাসনিক এলাকায় চিনা অঞ্চলে ভারতের অন্তর্ভুক্তি সবসময়েই বিরোধিতা করে চীন”।
তিনি আরও বলেন, “এই অবস্থান দৃঢ় এবং সঙ্গত এবং কখনই পরিবর্তন হয়নি। ভারতের তরফে তাদের অভ্যন্তরীণ আইন পরিবর্তন চীনা অঞ্চলের সার্বভৌমত্ত্ব পতন সাধনের চেষ্টা করে, যা গ্রহণযোগ্য নয় এবং কোনও ফল নেই”।
সূত্র : এনডিটিভি
এসজেড